bdstall.com

কৃত্রিম উপগ্রহ

আজ আমরা আমাদের জীবনকে অনেক সহজ এবং সুন্দর করে তুলেছি ইন্টারনেট, টেলিফোন ইত্যাদি যন্ত্র ব্যাবহারের মাধ্যমে। কিন্তু এইসকল যন্ত্রগুলো কার সাহায্যে একে অন্যের সাথে যোগাযোগ রাখে তা আমরা অনেকেই জানি না। সেই কাজটি করে থাকে পৃথিবী থেকে মহাকাশে প্রেরিত কৃত্রিম উপগ্রহ। 
রকেটের মাধ্যমে এগুলোকে কক্ষপথে পাঠানো হয়। ধাতু সংকর ফ্রেম দিয়ে স্যাটেলাইটের বডি তৈরি করা হয়। এর ভেতরেই দরকারি যন্ত্রাংশগুলো থাকে। বর্তমানে মহাকাশে স্যাটেলাইটের সংখ্যা ২২৭১ টি। আকাশে বিমানের সাথে যোগাযোগ রক্ষা, জিপিএস সংযোগ ইত্যাদি বিভিন্ন কাজে এই কৃত্রিম উপগ্রহ ব্যাবহার করা হয়। 
পৃথিবীর চারদিকে এই কৃত্রিম উপগ্রহ ঘুরতে থাকে। মহাকাশে বায়ুর অস্তিত্ব না থাকায় উপগ্রহগুলো তাদের স্বাভাবিক চলাচলে কোন প্রকার বাধার সম্মুখীন হয় না। টেলিভিশন, বেতারসংকেত প্রেরণ এবং আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী কৃত্রিম উপগ্রহগুলো পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে। পৃথিবী থেকে বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে সেগুলোতে তথ্য পাঠানো হয়। কৃত্রিম উপগ্রহ সেই তথ্যগুলো গ্রহণ করে এবং সেগুলোকে বিবর্ধিত করে আবার পৃথিবীতে প্রেরণ করে। কৃত্রিম উপগ্রহগুলো উৎক্ষেপণের সময়ই পর্যাপ্ত জ্বালানি সঙ্গে করে নিয়ে যায়। কেননা মহাকাশে নতুন করে জ্বালানী গ্রহণ করার কোন প্রক্রিয়া নেই। তবে কিছু কিছু উপগ্রহ তাদের জ্বালানী হিসেবে সৌরশক্তি ব্যবহার করে থাকে। এদের সিস্টেমের সঙ্গে সৌরকোষ বসানো থাকে। এগুলো ব্যবহার করে সূর্য থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি গ্রহণ করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন সর্বপ্রথম মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করে।
 ১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর 'স্পুৎনিক ১' নামের উৎক্ষেপিত কৃত্রিম উপগ্রহটিই প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ। এই উপগ্রহের নকশা করেছিলেন সের্গেই করালিওভ নামের একজন ইউক্রেনীয় বিজ্ঞানী। ১৯৫৭ সালেই সোভিয়েত ইউনিয়ন মহাকাশে তাদের আরেকটি কৃত্রিম উপগ্রহ স্পুৎনিক-২ উৎক্ষেপণ করে। এই উপগ্রহটি লাইকা নামের একটা কুকুর বহন করে মহাকাশের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তবে দুঃখের বিষয় উৎক্ষেপণের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লাইকা নামের কুকুরটি মারা যায়। পরবর্তীতে ১৯৫৮ সালের ৩১ জানুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ এক্সপ্লোরার-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে। অসংখ্য উপগ্রহ এই মহাকাশে ঘুরছে। তবে এদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। ২০০৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার কৃত্রিম উপগ্রহ ইরিডিয়াম ৩৩ এর সঙ্গে রাশিয়ার কসমস ২২৫১ উপগ্রহের সংঘর্ষ হয়। সাইবেরিয়ার ৭৮৯ কিলোমিটার ওপরে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। যাই হোক, এই কৃত্রিম উপগ্রহগুলো আমাদের জীবন যাত্রার মানকে অনেক উন্নত করেছে। আমাদের বাংলাদেশও 'বঙ্গবন্ধু-১' নামের একটি কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে আমরা আমাদের টেলিযোগাযোগ, টিভি ও বেতার সম্প্রচারের কাজগুলো আমাদের নিজস্ব উপগ্রহ দিয়েই করে নিতে পারবো। অন্যদেশের উপগ্রহ ব্যাবহার করতে হবে না। ফলে তার ভাড়া বাবদ অনেক টাকা আমরা বাঁচাতে পারবো।