bdstall.com

টোটাল স্টেশন থিওডোলাইট এর দাম

আইটেম ১-১ এর ১

টোটাল স্টেশন কেনাকাটা

টোটাল স্টেশন হচ্ছে এমন এক ধরণের ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা ভূমি, রাস্তা কিংবা বাসা বাড়ি নির্মাণ কাজে সঠিক দূরত্ব, কোণের পরিমাপ নির্দেশ করে থাকে। বাংলাদেশে ভূমি জরিপ ও নির্মাণ প্রকল্পের জন্য টোটাল স্টেশন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এই ধরণের ডিভাইস থেকে বস্তুর ঢালু দূরত্ব, অনুভূমিক কোণ এবং উল্লম্ব কোণ পরিমাপ করা যায় পাশপাশি তথ্য সংরক্ষন করার জন্য কম্পিউটারের সাথে যুক্ত করে তথ্য সংগ্রহ করা যায়। সম্পত্তির মালিকানা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য সঠিক ভূমি জরিপের জন্য থিওডোলাইট টোটাল স্টেশন অপরিহার্য ডিভাইস। পাশপাশি বাংলাদেশে প্রকৌশল, নির্মাণ এবং জরিপ শিল্পে কর্মরত পেশাদারদের জন্য অপরিহার্য হাতিয়ার হয়ে উঠেছে টোটাল স্টেশন। বর্তমানে বিডিতে সোকিয়া, কোলিদা সহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মান সম্পন্ন টোটাল স্টেশন পাওয়া যায়।

বাংলাদেশে কয় ধরণের টোটাল স্টেশন পাওয়া যায়?

বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরণের টোটাল স্টেশন পাওয়া যায়। তবে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভাবে ব্যবহৃত টোটাল স্টেশন হচ্ছেঃ

স্ক্যানিং টোটাল স্টেশনঃ লেজার স্ক্যানার দিয়ে  স্ক্যানিং টোটাল স্টেশন ডিজাইন করা হয়েছে যা একবারে একাধিক পয়েন্ট পরিমাপ করতে পারে। এই ধরণের টোটাল স্টেশন বিডিতে সাধারণত বড় আকারের  নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ব্যবহৃত হয়।

রোবোটিক টোটাল স্টেশনঃ মোটরযুক্ত এবং রিমোট কন্ট্রোল সিস্টেম দিয়ে রোবোটিক টোটাল স্টেশন তৈরি করা হয়েছে। যা ব্যবহারকারীকে দূর থেকে ডিভাইসটিকে পরিচালনা করতে দেয়। এই ধরণের টোটাল স্টেশন সাধারণত নির্মাণ বিন্যাস এবং স্টেকআউটের পাশাপাশি কাঠামোগত গতিবিধি পরীক্ষা করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

অটোলক টোটাল স্টেশনঃ এই ধরণের টোটাল স্টেশন স্বয়ংক্রিয় টার্গেটিং সিস্টেম দিয়ে তৈরি যা দ্রুত এবং সঠিকভাবে একটি প্রিজম বা লক্ষ্যে লক করতে পারে। এটি সাধারণত ভূমি জরিপ এবং নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ব্যবহৃত হয় যেখানে গতি এবং নির্ভুলতা গুরুত্বপূর্ণ।

মেকানিক্যাল টোটাল স্টেশনঃ এই ধরণের টোটাল স্টেশনে ইলেকট্রনিক উপাদান নেই এবং পরিমাপ করার জন্য যান্ত্রিক সিস্টেমের উপর নির্ভর করে। এটি বাংলাদেশে সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায় এবং ছোট পরিসরের প্রজেক্টে ব্যবহার করা জন্য খুবই কার্যকর৷

টোটাল স্টেশন ব্যবহারের সুবিধা কি কি?

বিডিতে ভূমি জরিপ, নির্মাণ প্রকল্প সহ অন্যান্য কাজে পরিমাপের ক্ষেত্রে টোটাল স্টেশন বিভিন্ন ধরণের সুবিধা প্রদান করে থাকে। উল্লেখযোগ্য সুবিধাগুলো হচ্ছেঃ

  • জরিপ এবং প্রকৌশল প্রকল্পে টোটাল স্টেশন নির্ভুল দূরত্ব, কোণ ও উচ্চতার পরিমাণ প্রদান করতে পারে।
  • বাংলাদেশে প্রথাগত জরিপের তুলনায় বর্তমানে টোটাল স্টেশন অনেক দ্রুত পরিমাপ করতে পারে যা সময় এবং খরচ অনেকাংশে কমিয়ে দিবে।
  • কোণ, দূরত্ব, এরিয়া এবং ভলিউম গণনা করার পাশাপাশি থ্রী-ডী মানচিত্র তৈরি করা যায় টোটাল স্টেশন দিয়ে, যা সমীক্ষা প্রকল্পগুলো উন্নত দক্ষতা প্রদান করবে।
  • টোটাল স্টেশন ভূমি জরিপ, নির্মাণ, প্রত্নতত্ত্ব এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সহ বিস্তৃত পরিসরে ব্যবহার করা যায়, যা বাংলাদেশে পেশাদারদের কাছে জনপ্রিয় ডিভাইস।
  • উচ্চ নির্ভুলতার সাথে কোণ এবং দূরত্ব পরিমাপ করা যায় টোটাল স্টেশন দিয়ে, যা নির্মাণ বিন্যাস, স্টেকআউট এবং কাঠামোগত গতিবিধি পর্যবেক্ষণের মতো কাজের জন্য যথেষ্ট কার্যকর।
  • আধুনিক টোটাল স্টেশনে স্বয়ংক্রিয় লক্ষ্য লকিং, প্রতিফলকহীন পরিমাপ এবং ইলেকট্রনিক ডেটা স্টোরেজের মতো উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত রয়েছে, যা প্রকল্পে নির্ভুল এবং দক্ষ পরিমাপ দিয়ে থাকে।

বাংলাদেশে টোটাল স্টেশনের দাম কত?

বর্তমানে, বিডিতে টোটাল স্টেশনের দাম এর ধরণ, গুণমান, এবং বৈশিষ্ট্যর ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশে টোটাল স্টেশনের দাম ১,৭০,০০০ টাকা থেকে শুরু যা ডিসপ্লে যুক্ত, নতুন ডিজাইন,রিফ্লেক্ট-লেস, নন-প্রিজম ১০০০এমটিএস রেঞ্জ, লিথিয়াম ব্যাটারি, আপগ্রেডেড ইডিএম এবং  ব্লুটুথ টেকনোলোজি যুক্ত রয়েছে। এছাড়াও প্রয়োজন অনুসারে অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন টোটাল স্টেশন বাংলাদেশে পাওয়া যায় যেগুলোর দাম তুলনামূলক বেশী হয়ে থাকে।

টোটাল স্টেশন কেনার আগে কি কি দেখতে হবে?

প্রয়োজনের জন্য সঠিক টোটাল স্টেশন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা উচিত। টোটাল স্টেশন কেনার আগে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হচ্ছেঃ

১। নির্ভুলতাঃ টোটাল স্টেশনের কেনার আগে নির্ভুলতা বিবেচনা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা পরিমাপের নির্ভুলতাকে প্রভাবিত করবে। তাছাড়া উচ্চ নির্ভুলতা রেটিং সম্পন্ন টোটাল স্টেশন বাছাই করে নেওয়া উচিত। 

২। পরিসরঃ নির্দিষ্ট প্রয়োজনের জন্য উপযুক্ত পরিসর সহ টোটাল স্টেশন যাচাই করে নেওয়া উচিত যা দিয়ে চাহিদা অনুযায়ী সর্বাধিক দূরত্ব পরিমাপ করা যাবে।

৩। ম্যাগনিফিকেশনঃ টেলিস্কোপের বিবর্ধন পরিমাপের স্পষ্টতা এবং বিস্তারিত ভাবে দেখার সুযোগ তৈরি করবে। তাই ২০এক্স এবং ৩০এক্স রেঞ্জের মধ্যে উচ্চ বিবর্ধন ফ্যাক্টর যুক্ত টোটাল স্টেশন বাছাই করে নেওয়া উচিত।

৪। ব্যাটারি লাইফঃ  প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করার ক্ষেত্রে পাওয়ার অ্যাক্সেস করার সীমাবদ্ধতা মাথায় নিয়ে টোটাল স্টেশনের ব্যাটারি লাইফ বিবেচনা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ যুক্ত টোটাল  স্টেশন বাছাই করতে হবে যা একক চার্জে কয়েক ঘন্টা পর্যন্ত বেক-আপ প্রদান করবে।

৫। স্থায়িত্বঃ টোটাল স্টেশন দিয়ে চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে কাজ করার জন্য শক্ত এবং টেকসই ডিভাইস বাছাই করা জরুরী। যা সাধারণত পানি, ধুলো-বালি এবং শক-প্রতিরোধ সক্ষমতা সম্পন্ন হবে।

৬। বৈশিষ্ট্যঃ বর্তমানে বিডিতে প্রাপ্ত টোটাল স্টেশনে প্রতিফলনহীন পরিমাপ, স্বয়ংক্রিয় টার্গেট লকিং এবং ইলেকট্রনিক ডেটা স্টোরেজ সহ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাই টোটাল স্টেশন কেনার আগে নির্দিষ্ট প্রয়োজনের জন্য কোন বৈশিষ্ট্যগুলি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা বিবেচনা করা উচিত।

৭। ব্র্যান্ড এবং বাজেটঃ  টোটাল স্টেশনের ব্র্যান্ড বিবেচনার পাশাপাশি দাম বিবেচনা করা উচিত। যার ফলে বাজেটের মধ্যে উচ্চ-মান সম্পন্ন টোটাল স্টেশন পাওয়া যাবে।

উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে টোটাল স্টেশন যাচাই করা উচিত যা নির্দিষ্ট চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি সঠিক এবং নির্ভরযোগ্য পরিমাপ প্রদান করবে।

টোটাল স্টেশন ব্যবহারে কিভাবে সঠিক মাপ নেওয়া যাবে?

সঠিক পরিমাপ পাওয়ার জন্য টোটাল স্টেশন ব্যবহারে সঠিক কৌশল প্রয়োগ করতে হবে। টোটাল স্টেশন ব্যবহারের কিছু সহায়ক পদক্ষেপ নিম্নে দেওয়া হলঃ

  • স্টেপ-১ঃ টোটাল স্টেশন সঠিকভাবে সেট- আপ নিশ্চিত করার জন্য ট্রাইপডে ভালো ভাবে বসাতে হবে এবং সমতল অবস্থায় রয়েছে কিনা চেক করতে হবে।
  • স্টেপ-২ঃ লেজার প্লামেট বসিয়ে নিশ্চিত করতে হবে যে টোটাল স্টেশন জরিপ করার পয়েন্টের উপরের অবস্থানে রয়েছে।
  • স্টেপ-৩ঃ পরিমাপ নেওয়ার আগে টোটাল স্টেশন সঠিক ভাবে ক্যালিব্রেট করা হয়েছে তা নিশ্চিত করতে হবে। যা অনুভূমিক এবং উল্লম্ব কোণগুলো সামঞ্জস্য করে দূরত্ব পরিমাপকে সঠিক করতে সহায়তা করবে। 
  • স্টেপ-৪ঃ প্রিজম ব্যবহার করে পরিমাপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক প্রিজম ব্যবহার করতে হবে যা পরবর্তীতে সঠিকভাবে মাউন্ট করার পাশাপাশি সারিবদ্ধ করতে হবে।
  • স্টেপ-৫ঃ পরিমাপ নির্ভুল হয়েছে তা যাচাই করার জন্য বিভিন্ন কোণ এবং অবস্থান থেকে একাধিক পরিমাপ নেওয়া উচিত। ফলে ত্রুটি পরীক্ষা করার পাশাপাশি পরিমাপ সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সহায়ক হবে।

উপরোক্ত পদক্ষেপ গুলো অনুসরণ করার পাশপাশি বাহ্যিক আবহাওয়া পরিস্থিতির খেয়াল রেখে পরিমাপের কাজ করতে হবে। শান্ত আবহাওয়াতে টোটাল স্টেশন ব্যবহার করে সঠিক পরিমাপ পাওয়া যাবে।

টোটাল স্টেশনে ইডিএম এবং ইএএম টেকনোলোজি কেন ব্যবহার করা হয়?

ইলেকট্রনিক ডিসটেন্স মেজারম্যান্ট সঠিক দূরত্ব পরিমাপ প্রদান করে এবং ইলেকট্রনিক এঙ্গেল মেজারম্যান্ট টোটাল স্টেশনে সুনির্দিষ্ট কোণ পরিমাপ প্রদান করে। তাই ভূমি জরিপ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রের টোটাল স্টেশন ব্যবহারের জন্য ইডিএম এবং ইএএম টেকনোলোজি দুটি দ্রুত এবং সুনির্দিষ্ট পরিমাপ দিয়ে থাকে। তাছাড়া এই প্রযুক্তি দুটি অটোমেশন করতে সক্ষম যা টোটাল স্টেশনের নির্ভুলতা উন্নত করে এবং মেকানিক্যাল টোটাল স্টেশনে তুলনায় বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে।