bdstall.com

মোবাইল ফোনের দাম ২০২২

আইটেম ১-২০ এর ২৩৭
বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট মোবাইল এর দাম

আমাদের দৈনন্দিন জিবনে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিটি, ফোনে কথা বলা, ভিডিও দেখা সব কিছুতেই মোবাইল ফোন ব্যবহারে করে থাকি বিশেষ করে স্মার্টফোনে। তাই কেনার আগে ব্র্যান্ড, মডেল, ডিজাইন, বাজেট, ইত্যাদি নিয়ে পরতে হয় অনেক দো-টানায়। মনের ভিতরে তৈরি হয় নানান জিজ্ঞাসার। তাই এই জিজ্ঞাসাকে অবসান করতে জেনে নিন বাংলাদেশে ভালো মানের মোবাইল কেনার কিছু টিপস।

বাংলাদেশে কয় ধরনের মোবাইল পাওয়া যায়?

বাংলাদেশে দুই ধরনের মোবাইল পাওয়া যায় 

  • স্মার্টফোন
  • বাটন ফোন

স্মার্টফোনঃ স্মার্টফোন সবচেয়ে জনপ্রিয় কারণ এটি শক্তিশালী অপারেটিং সিস্টেম যেমন অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস, টাইজেন দ্বারা চালিত।

বাটন ফোনঃ বাটন ফোন ২য় ফোন হিসেবে দারুণ। বাংলাদেশের অনেক প্রবীণ মানুষ কম দাম এবং ব্যবহারযোগ্য বৈশিষ্ট্যটির জন্য বাটন ফোন পছন্দ করেন। কিছু বাটন ফোন আকারে খুব ছোট বলে বাংলাদেশে এগুলো মিনি ফোন নামে পরিচিত

বাংলাদেশে কত ধরণের অপারেটিং সিস্টেমের মোবাইল ফোন পাওয়া যায়?

বাংলাদেশে মোট ৩ ধরণের অপারেটিং সিস্টেমের মোবাইল ফোন রয়েছে। এগুলো হলোঃ

  • জাভা অপারেটিং সিস্টেম
  • অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম
  • অ্যাপল অপারেটিং সিস্টেম

জাভা অপারেটিং সিস্টেমঃ বাটন মোবাইল গুলোর মধ্যে যেগুলো গেমস অপশন থাকে সেগুলো জাভা অপারেটিং সিস্টেম দ্বারা পরিচালিত হয়।

অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমঃ অধিকাংশ টাচস্ক্রীন মোবাইল গুলো অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম দ্বারা পরিচালিত হয়। এগুলোকে স্মার্টফোনও বলা হয়। তবে বর্তমানের কিছু বাটন মোবাইলে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম দেখা যায়।

অ্যাপল অপারেটিং সিস্টেমঃ অ্যাপল অপারেটিং সিস্টেমের সাহায্যে সকল আইফোন পরিচালিত হয়।

মোবাইলের কোন বৈশিষ্ট্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ?

একটি মোবাইল ফোন কেনার আগে অনেক গুলো বিষয় জেনে মোবাইল ফোন কেনা উচিৎ। কেননা মোবাইল কেনার আগে এই বিষয় গুলো জানা না থাকলে সঠিক মোবাইল ফোন কেনা কোনো ভাবেই সম্ভব হবে না। নিচে মোবাইল ফোন কেনার আগে যা যা জানতে হবে সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ

ব্যবহারের ধরণঃ মোবাইল ফোন কেনার আগে জানতে হবে এটির ব্যবহারের ধরণ সম্পর্কে। বাটন ফোন অথবা টাচস্ক্রীন ফোন যেটাই কেনা হোক না কেন আগে দেখতে হবে এটি কোথায় ও কীভাবে ব্যবহার করা হবে। শুধুমাত্র কথা বলার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চাইলে বাটন মোবাইল গুলোই যথেষ্ট হবে। তবে অন্যান্য কাজ করার ক্ষেত্রে যেমনঃ ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ফেসবুক, ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে চাইলে টাচস্ক্রীন ফোন সবচেয়ে সেরা। যদিও বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক বাটন ফোন পাওয়া যায় যাতে এসব সুবিধা আছে তবে টাচস্ক্রীন ফোনে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায় ব্যবহারের ক্ষেত্রে। তাই আগে বিবেচনা করে নিতে হবে মোবাইল ফোন কোন কাজে ব্যবহার করা হবে।

স্পীকারঃ মোবাইল কেনার আগে অবশ্যই স্পীকারের মান চেক করে নিতে হবে। কারণ স্পীকার যদি ভালো না থাকে তাহলে কথা বা কোনো অডিও স্পষ্ট ভাবে শোনা যাবে না। তাই মোবাইল ফোন কেনার আগে অবশ্যই স্পীকারের মান চেক করে নিতে হবে।

ব্যাটারিঃ বাটন মোবাইল হোক বা স্মার্টফোন, যেকোনো মোবাইলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হলো ব্যাটারি। একটি মোবাইলের ব্যাটারি ব্যাকআপ কেমন সেটির উপর নির্ভর করে মোবাইলের সকল কর্মদক্ষতা। স্মার্টফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ অনেক থাকে তবে বর্তমানের বাটন মোবাইল গুলোও কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। ৫২০০ মিলি এম্পিয়ারের বাটন মোবাইল এবং স্মার্টফোন পাওয়া যায় বাংলাদেশের বাজারে। তাই যে মোবাইলই কেনা হোক না কেন দেখে নিতে হবে ব্যাটারি মিলি এম্পইয়ার কত।

চার্জ টাইমঃ স্মার্টফোনের উন্নতির সাথে সাথে এর ব্যবহারও বেড়ে গিয়েছে তাই এটি দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গিয়েছে। তাই বার বার চার্জ এর প্রয়োজনহ হয়। এই চার্জ করতে গেলে প্রয়োজন ২/৩ ঘন্টা সময় কিন্তু আধুনিক অনেক মোবাইল দ্রুত চার্জিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। ফলে খুব আল্প্ সময়ের ভিতর এটি সম্পূর্ণ চার্জ করতে পারে। আর এতে সময় যেমন বাঁচে তেমনি ব্যবহারেও অনেক সুবিধা। তাই মোবাইল কেনার আগে এটি ফাস্ট চার্জ সাপোর্ট করে কিনা দেখে কিনলে ভাল হয়। তবে এই সুবিধাটুকু সাধারণত একটু ভাল দামের মোবাইলে পাওয়া যায়। 

নেটওয়ার্কঃ বাংলাদেশে বর্তমানে ৩জি, ৪জি এবং ৫জি নেটওয়ার্ক আছে। আপনার বাজেট অনুযায়ী সর্বোচ্চটি কেনার চেষ্টা করুন। এবং মনে রাখবেন যে উপরের সংস্করণটি নিম্ন সংস্করণকে সমর্থন করবে, যার অর্থ আপনি যদি ৫জি গ্রহণ করেন তবে আপনি ৪জি এবং ৩জি চালাতে পারেন।
 
ডুয়াল সিমঃ বাংলাদেশে নতুন যেসব মোবাইল ফোন পাওয়া যায় তার অধিকাংশই ডুয়েল সিম। যাইহোক, কিছু সেট এক সিমের হতে পারে। ব্যবহৃত মোবাইল যেগুলো সাধারণত বিদেশ থেকে আমাদানি করে বিক্রি হয় সেগুলো সিঙ্গেল সিমের হয়ে থাকে।

ডিসপ্লেরঃ সাইজঃ যদি ইন্টারনেট বেশি ব্যবহার করেন তবে বড় স্ক্রীনের মোবাইল যেমন সর্বনিম্ন ৫-৬ ইঞ্চির নেয়া উচিৎ। আইফোন এবং কিছু পুরাতন মডেলের মোবাইলের স্ক্রীন অনেক ছোট হয়ে থাকে। তবে সেগুলো বেশ বহনযোগ্য।   

রেজোলিউশনঃ বর্তমানের বেশিরভাগ মোবাইল এইচডি স্ক্রিনের হয়ে থাকে। তবে ফুল এইচডি আপনাকে আরও ভালো কোয়ালিটি দেবে।

সুরক্ষাঃ গরিলা বা অন্যান্য সুরক্ষিত কাচ থাকলে আলাদা করে আর স্ক্রীন প্রটেকটর এর দরকার নেই।

ঘনত্বঃ এই বিষয়টি অনেকে গুরুত্ব দেয় না কিন্তু এটি দিয়েই স্ক্রীনের মান নির্ণয় করা যায়। সর্বনিম্ন ২৬০ পিপিআই নেয়ার চেষ্টা করবেন। আর ৪০০ হলে খুব ভাল কোয়ালিটির ছবি দেখতে পারবেন।

র‌্যামঃ সাধারণ অ্যাপ্লিকেশানগুলো চালাতে ২ জিবিই যথেষ্ট। তবে ৩ জিবি হলে ভাল হয়। আর মোবাইলে আধুনিক গেম খেলতে হলে ৪ জিবি থাকা দরকার।

স্টোরেজঃ সর্বনিম্ন ১৬ জিবি হলে চলবে। আর অতিরিক্ত স্লট আছে কিনা দেখে নিন। যদি না থাকে তবে ১৬ জিবির বেশি নিলে ভাল হয়। পুরাতন মডেলের মোবাইলে সাধারণত কম স্টোরেজ থাকে তবে কার্ড স্লট থাকে।

প্রসেসরঃ ডুয়েল কোর একটু স্লো হতে পারে তবে বাজেট কম হলে চলবে। আর কোয়াড কোর সিপিউ হলে ভাল চলবে। নতুন মডেলের মোবাইলে অক্টাকোর সিপিউ থাকে।

ক্যামেরাঃ মেগাপিক্সেল দেখে নয় ক্যামেরার লেন্স কোয়ালিটি দেখে কিনুন। রাতে বা অল্প আলোয় ছবি তুলুন তাতে আপনি ক্যামেরার লো-লাইট পারফর্মেন্স সম্বন্ধে জানতে পারবেন।
 
সেন্সরঃ ডিজিটাল কম্পাস, গাইরোস্কোপ, এসপিও2 বা পাল্স অক্সিমিটার, অ্যাক্টিভিটি ট্র্যাকার থাকলে আপনি অনেক কাজে সুবিধা পাবেন।

ফ্ল্যাশ লাইটঃ ফ্ল্যাশলাইট অত্যন্ত জরুরী একটি বিষয়। ফ্ল্যাশলাইট ভাল এমন মোবাইল কেনা উচিৎ কারণ কোনো অন্ধকার স্থানে ফ্ল্যাশলাইটের আলো পাওয়া যাবে খুব সহজেই। ভ্রমণের সময় অথবা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে ফ্ল্যাশলাইট অনেক উপকারে আসে।

বাংলাদেশে মোবাইলের দাম কত?

বাংলাদেশে মোবাইলের দাম ৩,০০০ টাকা থেকে শুরু করে যা দুর্দান্ত কল করতে পারে এবং অল্প কিছু স্মার্টফোনের সুবিধা পাওয়া যায়। তার মধ্যে কিছু মোবাইলে বাটন থাকতে পারে। বিডিতে একটি ভালো মানের স্মার্টফোনের দাম হবে কমপক্ষে ১০,০০০ টাকা যাতে ফুল এইচডি টাচস্ক্রিন এবং স্মার্ট অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে। যদি বাজেট কম থাকে আর একটি ভাল স্মার্টফোন পেতে চান তবে একটি টিপ হল যে পুরানো মডেলের ফ্ল্যাগশিপ ফোন কেনা যাতে কম টাকায় আরও ভাল মানের হার্ডওয়্যার পেতে পারেন।

বাংলাদেশের সেরা মোবাইল এর মূল্য তালিকা December, 2022

মোবাইল মডেল বাংলাদেশে দাম
Hello Kitty D10 2.4" Dual SIM Touch Display Folding Phone ৳ ৩,৭৯০
Xiaomi Redmi 5 4GB / 32GB ৳ ৭,৩৫০
Xiaomi Poco C31 4GB RAM & 64GB ROM ৳ ১৪,০৩০
Agetel AG4 ৳ ২,৬৯৯
A1-B Slim Card Phone ৳ ১,৬৫০
Xiaomi Redmi 10 ৳ ১৬,০০০
Mycell FS102 4-Sim Big Speaker ৳ ১,৭৫০
Bontel 5310 Feature Phone ৳ ১,৫৫০
Redmi Note 5 ৳ ৮,৭০০
Gphone GP28 Plus ৳ ১,৬৯০