bdstall.com

পশুদের জন্য কন্টাক্ট লেন্স

"আশরাফুল মাখলুকাত"-পবিত্র কোরআনের এই অবিনশ্বর বাণী আমাদের স্মরন করিয়ে দেয় আমরা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি প্রাণীকুলের সর্বশ্রেষ্ট স্থানটি। আর সেই সাথে অর্পিত হয়েছে সৃষ্টিকর্তার সৃষ্ট এই জগৎ-সংসারের প্রতি কিছু দায়িত্ব। আমাদের এই দায়িত্বের মাঝে মূক ও বধির প্রানীকুলের প্রতি আমাদের সদয় আচরণও একটি। ইদানিংকালের এক গবেষনায় প্রকাশ পেয়েছে,শুধু মানুষ নয় বেশি বয়সে অনেক পশুর চোখেও ছানি পড়ে;বিশেষ করে আমাদের গৃহে পালিত পশুদের মাঝে এর প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের পশু বিশেষজ্ঞরা এই রোগের চিকিৎসার জন্য কয়েক রকমের উপায় খুঁজে বের করেছেন ।
তবে এই সকল উপায়ে চিকিৎসা যথেষ্ট ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। সম্প্রতি এক জার্মান গবেষক ও লেন্স নির্মাতা ক্রিস্টিন ক্রাইনার পশুদের জন্য বিশেষ এক ধরনের কনট্যাক্ট লেন্স তৈরি করেছেন৷ বিভিন্ন পশু চিকিৎসকদের সাথে যৌথ গবেষনায় তিনি এইললেন্স তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন৷ তবে এটি সকল পশুর ক্ষেত্রে উপযোগী না হলেও কুকুর ও বিড়ালের চোখে সহজেই ব্যবহার করা যাবে। এক পরিসংখ্যান থেকে উঠে এসেছে ছানি পড়া রোগের চিকিৎসার জন্য অপরেশন করতে খরচ হয় প্রায় এক থেকে দেড় হাজার ইউরো বা এক হাজার ডলার। অনেক পশুপ্রেমীই তার পছন্দের পশুটির জন্য এমন বিশাল অংকের টাকা ব্যয় করতে রাজি থাকলেও এত বড় অংকের অর্থ প্রায়শই সাধ্যাতীত হয়ে যায়। তবে এই কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহারের মাধ্যমে এই খরচ কমানো সম্ভব। সহজলভ্য হওয়ার কারনে সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই ধরনের লেন্সের চাহিদা বেড়েছে। ইউরোপে এটি এখনও তেমন জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি। ক্রিস্টিনে ক্রাইনার জানান,ইউরোপের বাজারে ব্যবসা করা কঠিন তবে অন্যদিকে এশিয়ায় এর চাহিদা বাড়ছে। বর্তমানে তার এমন চারটি লেন্স নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান আছে যেগুলোতে সর্বমোট ৫১ জন কর্মচারী আছে। এই সকল প্রতিষ্ঠানগুলোতে মানুষের পাশাপাশি পশুদের জন্য লেন্স তৈরি করা হয় এবং বাণিজ্যিক ভাবে বিক্রি করা হয়। এক পত্রিকা মাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান,ব্যাপক মুনাফা হওয়া সত্ত্বেও তিনি দুইটি প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে দেবেন যাতে এ ধরনের আরো বিষয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সময় দেয়া যায়। তাঁর আগামী কাজ হচ্ছে চোখের কৃত্রিম তারার জন্য রং তৈরি করা৷
এই প্রবন্ধটি পোস্ট করা হয়েছে: November 25, 2013
Reviews (0) Write a Review