bdstall.com

ব্রেইন কম্পিউটার ইন্টারফেস টেকনোলজি

ব্রেইন কম্পিউটার ইন্টারফেস টেকনোলজি বা বিসিআই নামক এমন এক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে যার দ্বারা খুব সহজেই মানুষের মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রন করা যাবে মেশিনের মাধ্যমে। শুধু তাই নয়, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কল্পনাতীত সব কাজ করা সম্ভব। এর জন্য দরকার ক্ষুদ্র এক ধরনের চীপ। এই চীপ মানব মস্তিষ্কের সাথে সংযোজিত করে মস্তিষ্কের প্রাণশক্তি নিউরনের কার্যপন্থা নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব। এই মাইক্রো চীপটি নিয়ন্ত্রিত হয় এক ধরনের বিশেষ মাষ্টার কম্পিউটার দ্বারা। বিজ্ঞান কখনই মানুষের অমঙ্গল আনে না। এটা মানুষ, যে বিজ্ঞানকে ব্যবহার করে স্বার্থ সিদ্ধির জন্য। এই প্রক্রিয়াটি মূলত মানব কল্যানের জন্য উদ্ভাবিত হয়েছে। জানা যায়, এই বিসিআই প্রযুক্তি দ্বারা পক্ষাঘাতগ্রস্থ কোন ব্যাক্তির নিষ্ক্রিয় নিউরনগুলোকে পুনরায় উজ্জ্বিবীত করা সম্ভব। মানুষের কর্মক্ষমতা বাড়ানো, দুর্ঘটনায় অঙ্গহানী বা কোমায় কিংবা প্রতিবন্ধী ব্যাক্তিদের সুস্থ করা সহ অসংখ্য উপকার এই প্রযুক্তি দ্বারা পাওয়া সম্ভব। শুধু তাই নয়, তথ্যের আদান প্রদানে বা যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এর উৎকর্ষতা পাওয়া যাবে। দুরারোগ্য ব্যাধী বা মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি সফলতা লাভ করতে পারে। মানুষের পাশাপাশি জীব জগতের অন্যান্য প্রাণীদের ক্ষেত্রেও এটি আশীর্বাদ বয়ে আনতে পারে। বিসিআই প্রযুক্তির অপর নাম হলো মাইন্ড-মেশিন ইন্টারফেস এমএমআই । অনেকে একে ডিরেক্ট নিউরাল ইন্টারফেস বা ব্রেইন মেশিন ইন্টারফেসও বলে থাকে। বিসিআই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলস এর ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৯৭০ সালে। এটি যুক্তরাষ্টের ন্যাশনাল সাইন্স ফাউন্ডেসনের একটি প্রোজেক্ট। প্রাথমিক ভাবে এই প্রোজেক্টের মূল লক্ষ্য ছিলো নিউরোপ্রস্থেটিক সিস্টেম এর উন্নতি ঘটানো অর্থাৎ শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ন্ত্রনকারী নিউরনের কর্মক্ষমতা বাড়ানো এবং সেই সাথে এক মস্তিষ্ক থেকে অন্য মস্তিষ্কে তথ্য প্রেরন করা। পরবর্তী কয়েক দশকে গবেষনাকারী দলটি এই বিষয়ে অভূতপূর্ব সফলতা অর্জন করে। তবে এর পেছনে সবথেকে বড় অবদান যে ব্যাক্তিটির তিনি হচ্ছেন হ্যান্স বার্গারস। বার্গারস সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন মানব মস্তিষ্কের ইলেক্ট্রিক্যাল এক্টিভিটি। ১৯২৪ সালে বার্গারস মস্তিষ্কে চলমান ইলেক্ট্রিক্যাল এক্টিভিটি রেকোর্ড করতে সক্ষম হন। তার এই গবেষনার নাম ছিলো দ্য ইলেক্ট্রিক্যাল এক্টিভিটি অফ দ্য হিউম্যান ব্রেইন এন্ড দ্য ডেভেলপমেন্ট অফ দ্য ইলেক্ট্রোএন্স - ফ্যালোগ্রাফী সংক্ষেপে ইইজি। সেই সাথে তিনি মস্তিষ্কের অবস্কিলেটরি এক্টভিটি নির্ণয়েও সক্ষম হন। এই পরীক্ষনটির জন্য তিনি তার রোগীদের মস্তিষ্কে এক ধরনের সিলভারের তার প্রবেশ করান। সম্পূর্ন পরীক্ষাটি করার জন্য তিনি রুডিমেন্টারি নামক একটি বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করেন। এই বিশেষ প্রক্রিয়ার পরীক্ষাটি দ্বারা তিনি মস্তিষ্কে চলমান বৈদ্যুতিক গতিবিধি, তরঙ্গ দৈর্ঘ্য এবং বিদ্যুতের ভোল্ট নির্ণয়ে সক্ষম হন। পরবর্তীতে তার উদ্ভাবিত এই প্রক্রিয়া এবং যন্ত্রের উন্নতি ঘটিয়ে বিসিআই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়।
এই প্রবন্ধটি পোস্ট করা হয়েছে: August 06, 2013
Reviews (0) Write a Review