bdstall.com

ডেক্সটপ কম্পিউটার কেনার খুঁটিনাটি

ডেক্সটপ কেনার আগে অনেকেই এর কনফিগারেশন নির্বাচন নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান। নিচে আপনার জন্য কিছু পয়েন্ট তুলে ধরা হলঃ 

 

ডেক্সটপ পিসির বর্তমান মূল্য তালিকা

 

●● ব্র্যান্ড পিসি / কাস্টম পিসিঃ প্রথমেই আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি কোন ব্র্যান্ডের ডেক্সটপ পিসি কিনবেন নাকি কাস্টম ডেক্সটপ পিসি কিনবেন। ব্র্যান্ড পিসি হল জনপ্রিয় কোন ব্র্যান্ডের ডেক্সটপ যেগুলোর একটি মডেল নাম্বার থাকে এবং কনফিগারেশন পরিবর্তন করা যায়না। আর কাস্টম পিসি হল আপনার চাহিদা অনুযায়ী কনফিগারেশন ঠিক করে দিয়ে কিনতে পারবেন। 

 

●● প্রসেসরঃ কম্পিউটার কেনার কথা চিন্তা করলে প্রথমেই আপনাকে প্রসেসর ঠিক করতে হবে।সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রচলিত প্রসেসর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হল ইনটেল। এদের প্রসেসরই       বাজারে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

 

জেনারেশন- প্রসেসরের জেনারেশন বলতে সেই প্রসেসর কতটা অত্যাধুনিক সেটি বোঝায়। প্রায় প্রতি বছরই ইনটেল নতুন প্রযুক্তির প্রসেসর মুক্তি দেয়। প্রতিটি নতুন প্রসেসরের কার্যক্ষমতা আগেরটির তুলনায় বেশি থাকে। একটি প্রসেসরের ভেতরে অসংখ্য ট্রান্সিস্টর থাকে। প্রতি বছরই ইনটেল সেই সকল ট্রান্সিস্টরকে আরো উন্নত করে এবং নতুন জেনারেশন হিসেবে মুক্তি দেয়। যেমন চতুর্থ জেনারেশন, পঞ্চম জেনারেশন কিংবা ষষ্ট  জেনারেশন।সুতরাং প্রসেসরের জেনারেশন যত আধুনিক হবে, কার্যক্ষমতাও তত ভালো  হবে।

 

সিরিজ-  প্রসেসর কেনার ক্ষেত্রে প্রসেসরের সিরিজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজ যত আধুনিক হবে প্রসেসরের পারফর্মেন্সও তত ভালো হবে। যেমন কোর আই থ্রি, কোর আই ফাইভ এবং কোর আই সেভেন। 


• ইন্টেল কোর আই৫ - মূল্য এবং কর্মক্ষমতা সমন্বয় করে মূলধারার সবচেয়ে জনপ্রিয় সিপিইউ ইন্টেল কোর আই৫। যেসব প্রসেসর মডেলের শেষে ইউ আছে সেগুলো প্রচলিত মডেল। মডেলে ওয়াই আছে যেগুলোতে সেগুলো অপেক্ষাকৃত কম কর্মক্ষমতাসম্পন্ন। এইচকিউ মডেলগুলোর ৪টি কোর থাকে। ইন্টেলের সর্বশেষ প্রজন্ম হচ্ছে 'কাবি লেইক' সিপিইউ যার মডেল নাম্বার ৭ দিয়ে শুরু হয়। এটির কর্মক্ষমতা অপেক্ষাকৃত সবচেয়ে ভালো।

 

• ইন্টেল কোর আই৭ - এটি ওয়ার্কস্টেশন ও গেমিং এর জন্য প্রচলিত। এইচকিউ ও কে মডেলের প্রসেসরগুলো অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এবং এগুলোর ৪টি কোর থাকে। যার ফলে প্রসেসরগুলোর কর্মক্ষমতা আরও অনেক বেড়ে যায়। ওয়াই সিরিজের চিপগুলো অপেক্ষাকৃত কম কর্মক্ষমতাসম্পন্ন। ইন্টেল কোর আই৭ এর সর্বশেষ প্রজন্মের মডেলগুলোতে ৭ আছে।

 

• ইন্টেল কোর আই৩ - এর কার্যক্ষমতা ও মূল্য দুটোই কোর আই৫ আর চেয়ে একটু কম।

 

• এএমডি এ, এফএক্স বা ই সিরিজ -  এই চিপগুলো অল্প বাজেটের ডেস্কটপে ব্যবহার করা হয়। একে সাধারণত সিপিইউ না বলে এপিইউ বলা হয়। মূল্য অনুসারে এগুলো যথাযোগ্য পারফর্মেন্স দিয়ে থাকে।

 

• ইন্টেল অ্যাটম - এই চিপগুলো অতি সাশ্রয়ী মূল্যের ডেস্কটপে পাওয়া যায়। চিপগুলো ব্যাসিক পারফর্মেন্স দিয়ে থাকে।

 

• ইন্টেল পেন্টিয়াম / সেলেরন - এগুলো অ্যাটমের তুলনায় একটু দ্রুত কাজ করে।

 

• ইন্টেল জেনোন্ - এগুলো বড় মোবাইল ওয়ার্কস্টেশনে ব্যবহৃত অত্যন্ত শক্তিশালী ও ব্যয়বহুল প্রসেসর। আপনি যদি প্রফেশোনাল ইঞ্জিনিয়ারিং, থ্রিডি মডেলিং বা ভিডিও এডিটিং করেন থাকেন তাহলে হয়তো আপনি এই প্রসেসর কেনার কথা চিন্তা করতে পারেন।

 

ক্লক স্পিড- প্রসেসরের ক্লক স্পিড যত বেশি হবে প্রসেসরের কার্যক্ষমতাও তত ভালো হবে। যেমন ৪.২ গিগাহার্জ এর একটি প্রসেসর এর কার্যক্ষমতা ২.২ গিগাহার্জ এর একটি প্রসেসর থেকে নিঃসন্দেহে অনেক বেশি হবে। 

 

●● মাদারবোর্ডঃ মাদারবোর্ড কেনার আগে প্রথমেই আপনাকে লক্ষ্য করতে হবে মাদারবোর্ডটি কোন কোন মডেলের প্রসেসর এবং সর্বোচ্চ কত গিগাবাইট র‍্যাম সাপোর্ট করে। আপনার প্রসেসর এবং র‍্যামের সাথে মিল রেখেই একটি মাদারবোর্ড নির্বাচন করুন। মাদারবোর্ডে হার্ড ডিস্কের জন্য কতগুলো পোর্ট আছে সেটি দেখে নিন। যত বেশি পোর্ট থাকবে ততই আপনার জন্য ভালো। এছাড়াও ইউএসবি পোর্ট কতগুলো আছে সেটিও খেয়াল রাখুন। বাজারে আসা সর্বশেষ মডেলগুলো থেকে যেকোনো একটি মডেলের মাদারবোর্ড নির্বাচন করার চেষ্টা করুন।

 

●● র‍্যামঃ কম্পিউটারে র‍্যাম যত বেশি হবে তত ভালো। বাজারে ২ গিগাবাইট থেকে শুরু করে ৮, ১৬ এমনকি ৩২ গিগাবাইটের র‍্যামও পাওয়া যায়। আপনার কাজের ধরন অনুযায়ী যেকোনো ক্যাপাসিটির একটি র‍্যাম নির্বাচন করুন। মনে রাখবেন র‍্যামের বাস ফ্রিকোয়েন্সি যত বেশি হবে, র‍্যামের কার্যক্ষমতাও তত বেশি দ্রুত গতির হবে।

 

●● স্টোরেজঃ স্টোরেজ সাধারণত ২ ধরনের হয়। এসএসডি এবং হার্ডডিস্ক। বর্তমানে বাজারে ১৬০ গিগাবাইট থেকে শুরু করে ৩ টেরাবাইটের স্টোরেজও পাওয়া যায়। 

 

• এসএসডি- এসএসডি মূলত কম্পিউটারের একধরনের ফ্ল্যাশ স্টোরেজ ব্যবস্থা। যার মূল কাজ হল তথ্য সংরক্ষণ করে রাখা। ওজনে হালকা এবং আকারে ছোট হওয়ায় দিন দিন এই এসএসডির জনপ্রিয়তা ক্রমেই বেড়ে চলেছে এবং হার্ড ড্রাইভ এর প্রচলন কমে আসছে। এসএসডিতে হার্ড ড্রাইভের মত কোন ডিস্ক থাকে না। এতে কয়েকটি ইলেকট্রিক চিপ থাকে যা ডাটা সংরক্ষনের কাজটি করে। এই এসএসডি স্টোরেজ ব্যবস্থা হার্ড ড্রাইভ এর তুলনায় অনেক দ্রুত কাজ করে। কয়েক মাইক্রো সেকেন্ডের মধ্যে এর থেকে ডাটা পাওয়া যায় যা হার্ড ডিস্কের করতে কয়েক মিলি সেকেন্ড সময় লেগে যায়। PCIe x4 এসএসডি প্রচলিত সাটা ড্রাইভ থেকে ৩ গুন দ্রুত। ইএমএমসি মেমরিগুলো টেকনিক্যালি এসএসডি হলেও তা হার্ড ডিস্কের চেয়ে দ্রুত না। আপনার বাজেট বেশি হলে এসএসডি স্টোরেজ কেনার চেষ্টা করুন। তবে হার্ডডিস্ক এর তুলনায় এসএসডি কিছুটা ব্যায়বহুল। 

 

• এইচডিডি- হার্ড ডিস্ক বর্তমানে ২৫০ জিবি থেকে ২ টেরাবাইট পর্যন্ত পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে আপনার চাহিদা অনুযায়ী হার্ডডিস্ক নিন। আপনার যদি বেশি ডাটা ব্যাকআপ রাখার প্রয়োজন হয় তাহলে ৭৫০ জিবি কিংবা ২ টেরাবাইট এর হার্ডডিস্ক নিতে পারেন। নাহলে ৫০০ জিবি হার্ডডিস্কই যথেষ্ট। হার্ডডিস্ক নির্ধারণ করার সময় এর আরপিএম ভালো করে দেখে নিন। আরপিএম যত বেশি হবে ফাইল ট্রান্সফার এর গতি তত বেশি হবে।

 

●● গ্রাফিক্স কার্ডঃ ইন্টারনেট ব্রাউজিং, গান শোনা কিংবা মুভি দেখা এসকল সাধারন কাজের জন্য কম্পিউটারে আলাদা গ্রাফিক্স কার্ডের প্রয়োজন নেই। বিল্ট-ইন গ্রাফিক্স ই যথেষ্ট। তবে ছবি-ভিডিও এডিটিং কিংবা গেমিং করতে চাইলে আলাদা ডেডিকেটেড গ্রাফিক্স কার্ড নিতে হবে। এক্ষেত্রে আপনার মাদারবোর্ড এবং প্রসেসরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি গ্রাফিক্স কার্ড নির্বাচন করুন। তবে গ্রাফিক্স কার্ডের সাথে সাথে কুলিং সিস্টেমের ব্যাপারটিও লক্ষ্য রাখবেন। কেননা পর্যাপ্ত কুলিং সিস্টেম না থাকলে অতিরিক্ত গরম হয়ে গ্রাফিক্স কার্ড পুড়ে যেতে পারে।

 

●● কেসিংঃ বর্তমানে বাজারে বেশ কিছু গেমিং কেসিং পাওয়া যাচ্ছে যেগুলো খুবই দৃষ্টিনন্দন এবং বিভিন্ন রঙের লাইটিং থাকে। আপনার পছন্দ অনুযায়ী একটি নির্বাচন করুন। তবে পাওয়ার সাপ্লাই বেশি থাকলে ভালো, যদি ভবিষ্যতে এক্সটারনাল গ্রাফিক্স কার্ড কিংবা সাউন্ড কার্ড ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে।

 

ডেক্সটপ পিসির বর্তমান মূল্য তালিকা